তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তেহরান সফর সম্পন্ন করার পর তিনি এই তথ্য জানান। এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মূলত চলমান সংঘাতের বিস্তার রোধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং বিদ্যমান সংকট দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মহসিন নাকভি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট তার সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেছেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধের একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশ মতবিনিময় করেছে। তবে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, তেহরান সফরের ঠিক আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরানকে “যেকোনো ধরনের লাইফলাইন” বা টিকে থাকার সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে পাকিস্তান ও ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

