জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার–এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, সফরকালে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ–এর সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠক করেন।
রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নেওয়া সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ড. রহমান বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
এছাড়া যেসব পোশাকপণ্যে মার্কিন কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ওপর থেকে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও গুরুত্বসহকারে আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই বিষয়টি পর্যালোচনায় একমত হন।
বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করতে যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়বে। এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি)–এর তহবিল প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তা কামনা করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দলে সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
