বাংলাদেশ আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর একতরফা নির্ভরশীল থাকতে আগ্রহী নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির সরকারের রূপান্তরমূলক পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন। ১০ অক্টোবর (শনিবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের রূপান্তরমূলক পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়া সংক্রান্ত কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ টোকিও সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কোনো রাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী বা নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চাই না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়াকে ঘিরে সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি জানান, রিয়াদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কেবল ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারের গণ্ডিতে আটকে রাখা হবে না। বরং এটিকে বহুমুখী ব্যবসা, শিল্প ও বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগনির্ভর একটি গভীর অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ও পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মক্কা ও মদিনা শরিফের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামের এই পুণ্যভূমি দুটির নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের কোনো ধরনের আপস করার অবকাশ নেই। পবিত্র এই ভূমি যদি কখনো আক্রান্ত বা হুমকির মুখে পড়ে, তবে প্রয়োজনীয় যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা দিতে ঢাকা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরসূচির বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করবেন। এছাড়া আগামী ২৬ অক্টোবর চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুমুখী যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সফরগুলো অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলে মনে করা হচ্ছে।

