দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান শুক্রবার এ প্রত্যাশার কথা জানান।
তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কেউ প্রত্যাহার না করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর **শেরেবাংলা নগর**ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন,
“বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। অনেকেই মনে করেছেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে ভালো হতো, সেই প্রত্যাশা থেকেই কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়নি। আমরা আশা করি, তারা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। ইতোমধ্যে অনেক জায়গা থেকে প্রত্যাহারের খবরও পেয়েছি।”
খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তার সুযোগ্য সন্তান **তারেক রহমান**কে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তারেক রহমান নিজেই বলেছেন, তার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, সেখান থেকেই তিনি শুরু করবেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন বলে বিএনপি আশাবাদী।
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির কাজ চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, বিশেষ করে জকসু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ছাত্র সংগঠন কার্যক্রম চালাতে পারেনি। অন্যদিকে একটি সংগঠন সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে কৌশলগতভাবে কাজ করেছে। তবে বিএনপি এমন কৌশলে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “এটি একটি রূপান্তরমূলক সময়ের নির্বাচন। এটিই শেষ নয়।”
এর আগে নজরুল ইসলাম খান বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি (বিএমসিএস) আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় বিএমসিএসের সভাপতি মারুফা রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
