যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দিলে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ইতিমধ্যে সংকটাপন্ন ইরানি অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান চায় না কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিক।

মহসিন রেজাই প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তারা যদি ট্রাম্পের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে শামিল হয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, ইরান প্রথমে আলোচনার পথ খুঁজবে, তবে তাতে কাজ না হলে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে দ্বিধা করবে না। বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি ইরানের এই বার্তা মূলত একটি চূড়ান্ত আল্টিমেটাম। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরানের নতুন আক্রমণাত্মক কৌশলে দুটি বিষয় স্পষ্ট: প্রথমত, ‘পূর্ব সতর্কতামূলক প্রতিরোধ’, যার লক্ষ্য হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা। দ্বিতীয়ত, ‘অসম মাত্রার পাল্টা জবাব’, যা শত্রুর হামলার প্রস্তুতির আগেই ইরানি প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। রেজাইয়ের এই সতর্কবার্তা সম্ভবত হরমুজ প্রণালির বাইরের বিকল্প রুট, বিশেষ করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার (২৩ আগস্ট) এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল ইরান ভেঙে পড়লে দেশটি ভেনিজুয়েলার মতো পরিস্থিতির শিকার হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এই দাবিকে সত্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো উপায়ে ইরানকে বাঁচিয়ে রাখার পথ তৈরি করে দেওয়া দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। পরদিন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আপনারা হয় আমাদের পক্ষে, না হয় আমাদের বিপক্ষে।’ তিনি আরও জানান, ইরান থেকে ৮০ শতাংশের বেশি তেল ক্রয়কারী চীনের কাছ থেকেও তারা পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন থমকে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, তখন এই নতুন উত্তজনা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শনিবার ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরিকল্পনা করছে, যা ইতিমধ্যেই সংকটে থাকা ইরানি অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যে দেশই অংশ নেবে, তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে,’ উল্লেখ করে মহসিন রেজাই ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বিকল্প রপ্তানি রুটগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে ডজনখানেকেরও বেশি স্থানে তাদের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে, যার মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া জর্ডানসহ পুরো অঞ্চল জুড়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন যুদ্ধের আগে ভুল ধারণা করেছিল যে, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ইরান ভেঙে পড়বে এবং ভেনেজুয়েলার মতো অবস্থায় পরিণত হবে।