যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার ক্ষেত্রে অনেক সময় উচ্চতর ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতার অভাব একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন অনেক পেশা রয়েছে যেখানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায় এবং কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো পেশায় যোগ দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (EAD) থাকা বাধ্যতামূলক।
১. গুদামকর্মী: গুদাম বা ওয়্যারহাউসে পণ্য সাজানো, প্যাকেট তৈরি, অর্ডার প্রস্তুত করা এবং মালামাল সরানোর কাজগুলো নতুনদের জন্য বেশ সহজ। এসব কাজে সাধারণত বিশেষ কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।
২. পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহন চালক: ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে উবার বা লিফটের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যায়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ট্যাক্সি, শাটল ও ব্যক্তিগত চালকদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৬৬০ ডলার।
৩. নার্সিং সহকারী: স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। যদিও এটি কিছুটা প্রশিক্ষণের দাবি রাখে, তবুও নতুনদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ। ২০২৪ সালে নার্সিং সহকারীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৯ হাজার ৫৩০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এই খাতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৪. ভবন ও প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নতাকর্মী: হোটেল, হাসপাতাল, অফিস বা স্কুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পাওয়া বেশ সহজ। এ ধরনের কাজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি লাগে না এবং কর্মক্ষেত্রেই কাজের নিয়ম শিখিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশায় নিয়োজিতদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৫ হাজার ৯৩০ ডলার।
৫. রেস্টুরেন্ট বা খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী: রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুডের দোকানে খাবার তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া বা উপকরণ কাটার কাজে নতুনদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণই এখানে কাজ শুরুর জন্য যথেষ্ট।
৬. খুচরা বিক্রয়কর্মী: ওয়ালমার্ট বা টার্গেটের মতো বড় দোকানে পণ্য সাজানো এবং ক্রেতাদের সহায়তা করার কাজে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে খুচরা বিক্রয়কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৭০ সেন্ট।
৭. নির্মাণশ্রমিক ও সহকারী: শারীরিক পরিশ্রমে আগ্রহী হলে নির্মাণ খাতে কাজ করা যেতে পারে। নির্মাণস্থলে সরঞ্জাম সরানো বা কাজের জায়গা পরিষ্কার রাখার মতো কাজে ডিগ্রি লাগে না। ২০২৪ সালে নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৬ হাজার ৫০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এই খাতে কর্মসংস্থান ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
৮. নিরাপত্তাকর্মী: অফিস, হাসপাতাল বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে অনেক অঙ্গরাজ্যে এর জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। ২০২৪ সালে নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৮ হাজার ৩৭০ ডলার।
৯. রাঁধুনি বা রান্নাঘরের কর্মী: রেস্টুরেন্টে রান্নার কাজে নতুনরা সহকারী হিসেবে যোগ দিতে পারেন। ২০২৪ সালে রাঁধুনিদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৭ ডলার ১৯ সেন্ট। এর মধ্যে ফাস্ট ফুড রাঁধুনিদের বেতন ছিল ১৪ ডলার ৫০ সেন্ট এবং রেস্টুরেন্ট রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৭ ডলার ৭১ সেন্ট।
১০. ক্যাশিয়ার: মুদি দোকান বা গ্যাস স্টেশনে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করা নতুনদের জন্য অন্যতম সহজ পথ। লেনদেনের হিসাব রাখা ও গ্রাহকের পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের এই কাজে ২০২৪ সালে মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৪ ডলার ৯৯ সেন্ট।
নতুন অবস্থায় প্রথম চাকরিটিকে কেবল আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে, একে ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানো, পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ার একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। চাকরির আরও তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসে চাকরি শুরু করতে চাইলে ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা না থাকলেও কিছু পেশায় প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উবার, লিফটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজের নিয়ম, গাড়ির শর্ত, ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির বীমা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের প্রয়োজনীয়তা কোম্পানি ও এলাকার ওপর নির্ভর করে। চাকরির আরও তথ্য: ২০২৪ সালে খাবার প্রস্তুতকারী কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৪৫ সেন্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ পেশায় ঢোকার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের নিয়ম জানা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কর্মসংস্থানের অনুমতির নথি বা ইএড যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমোদনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

