রাজবাড়ীতে কাপড় বাজার ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক নারী ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে তাকে এভাবে প্রকাশ্যে মারধর করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তিনি দীর্ঘ এক যুগ ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন। তার অভিযোগ, অন্য ব্যবসায়ীরা তার কর্মচারীদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি। পরবর্তীতে শনিবার তিনি শতাধিক নারীকে নিয়ে মার্কেটের নিচতলায় হ্যান্ডমাইক হাতে মিছিল বের করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ওই নারীর বিচারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যান।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ কনস্টেবল ওই ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন তাকে লাথি ও ঘুষি মারছেন। তবে বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, হামলাকারীরা তাদের কেউ নয়, বরং বহিরাগত। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রকাশ্যে এমন লাঞ্ছনার শিকার হওয়ায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ দাবি করেছেন, ওই নারীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল এবং তাকে আর কাপড় বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শাসমুল হক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দায়ের করলে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

