সেমির গেরো কাটিয়ে এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে চোখ বাংলাদেশ নারী দলের

২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেই সাফল্যের পর থেকে বারবার সেমিফাইনালের বাধা টপকাতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এবার সেই বৃত্ত ভেঙে ফাইনাল খেলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগামী ২৮শে আগস্ট দুবাইয়ে শুরু হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের নতুন আসরে অংশ নিতে আগামীকাল সন্ধ্যায় দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর অনুশীলন ক্যাম্প চালিয়েছে তারা, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গত আসরে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এছাড়া ২০২২ সালে ঘরের মাঠে বৃষ্টির কারণে সেরা চারেও জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি। ২০১৮ সালের পর থেকে ফাইনালের মঞ্চে আর ফেরা হয়নি তাদের। এশিয়া কাপের এবারের আসরকে সামনে রেখে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে এবং অনেকগুলো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তারা। জ্যোতি বলেন, বারবার সেমিফাইনাল থেকে ফিরে আসাটা হতাশাজনক, তাই এবার তারা সেই গণ্ডি পেরিয়ে ফাইনাল খেলার লক্ষ্য স্থির করেছেন।

এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে লড়বে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। আগামী ৩১শে আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৬ই সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ই সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে তারা। গত আসরে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের কারণে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে জ্যোতি জানান, এবার লঙ্কানদের হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মতো তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে ভারতের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমবে, যা তাদের ফাইনালের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে। দলের লক্ষ্য এখন মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো।