মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আজ সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প, তবে শনিবার তিনি সেই পরিকল্পনা স্থগিত করে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার কথা জানান।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পাবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই নৌপথটি বর্তমান সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ। এছাড়া আলোচনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসানের বিষয়টিও রাখা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধেই তিনি সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তবে ইরানের গণমাধ্যম ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তেহরান তাঁকে হামলা থেকে বিরত থাকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, এটি এমন একটি পথ হবে যা উভয় পক্ষের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে এই সমঝোতার অর্থ প্রণালিটি আবার আগের মতো খুলে দেওয়া নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। গত মাসে এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করলে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে, যেখানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে এসেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি জানিয়েছেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি পুনরুজ্জীবিত করা। এটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়, বরং বিস্তৃত আলোচনার একটি ধাপ। বর্তমানে কোথায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে ট্রাম্পের দাবি, হামলাটি চালানো হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণ হতো।

