নিঃশর্ত সামরিক সহায়তার ঘোর বিরোধী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয়লাভ করেছেন আবদুল এল-সায়েদ। মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিদেশি সামরিক সহায়তা নীতির বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৪১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলসহ বিশ্বের কোনো দেশকেই নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি কোনো দেশের জন্যই নিঃশর্ত সামরিক সহায়তার পক্ষে নই। এর মধ্যে ইসরায়েল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মিসর, যেখানে আমার পরিবারের শিকড়; পাশাপাশি পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।’ তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার অঙ্গরাজ্যের এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে মানুষের গড় আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার। আমি বিশ্বাস করি, করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’

আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে এল-সায়েদ বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লিহি আইন রয়েছে এবং সেই নীতিই কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করতে চাই না, যারা গণহত্যা, বর্ণবৈষম্য বা এমন কোনো যুদ্ধে জড়িত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ তবে তিনি একই সঙ্গে ইহুদি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় জনগণের শান্তি, মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের সমান অধিকারের পক্ষেও মত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হেইলি স্টিভেন্সের নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েলপন্থী আইপ্যাক প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে আবদুল এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত