মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে চীনের কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে চীন কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির রপ্তানিতে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রথমবারের মতো বৈদেশিক বাণিজ্য আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত শুরুর পাশাপাশি সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।

চীনের দাবি, এই পাল্টা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জোরপূর্বক শ্রম আইনের দোহাই দিয়ে ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) মাধ্যমে চীনা ড্রোন, রোবট ও বিদ্যুৎ ইনভার্টার আমদানিতে বাধানিষেধ। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপগুলো ‘সংযত’। চীন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয় এবং তারা আশা করে, যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার জবাব দেওয়ার জন্য চীন ধারাবাহিকভাবে তাদের আইনি ও নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা, বিদেশি নিষেধাজ্ঞাবিরোধী আইন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য আইনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়েন্ডি কাটলারের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বর্তমানে চীন অনেক বেশি সুসংগঠিতভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কমপ্লায়েন্স টেস্টিং এলএলসি’-এর প্রধান মাইকেল শ্যাফার জানিয়েছেন, চীনের এই সিদ্ধান্ত তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। এই প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রনিক পণ্যের সনদ প্রদানের কাজ করে। চীনের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সব নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছে। এফসিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রায় ৭৫ শতাংশ ইলেকট্রনিক পণ্য চীনে পরীক্ষা করা হয়, যে কারণে চীন এই খাতের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তৎপর।

ইনস্টিটিউট ফর চায়না–আমেরিকা স্টাডিজের গবেষক সৌরভ গুপ্তের মতে, চীনের বর্তমান পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো অনেক বেশি পরিপক্ব। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে চীন সাত ধরনের বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, যা বিশ্ব সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বিজনেস কাউন্সিলের সহসভাপতি কাইল সুলিভান মনে করেন, চীন বর্তমানে তাদের অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলো অনেক বেশি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে, যদিও তারা উত্তেজনা প্রশমনের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ করেনি। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চীনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় এবং এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত