থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন নন্তাবুরি স্কুলে শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ১৪ বছর বয়সি এক কিশোর শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নৃশংস এই তাণ্ডব চালানোর পর অভিযুক্ত হামলাকারী কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করে। এই হামলায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় সকালে ব্যাংক ক্রুয়াই জেলার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ১৮ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানায়, শুরুতে সে শব্দগুলো গুলির আওয়াজ বলে বুঝতে পারেনি। সে ভেবেছিল হয়তো আতশবাজি বা পটকা ফুটছে। ওই শিক্ষার্থী জানায়, প্রথমে সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু একের পর এক গুলির শব্দ (ব্যাং, ব্যাং, ব্যাং) পাওয়ার পর সে ভয়াবহতা বুঝতে পারে। গুলির শব্দের মাঝে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা থাকলেও পরে আবারও একইভাবে গোলাগুলি শুরু হয়।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দের মধ্যে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে সারিবদ্ধভাবে স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে আসছে। একটি দৃশ্যে দেখা গেছে, রক্তাক্ত এক আহত ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা জরুরি সেবা প্রদান করছেন।
স্থানীয় জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই বিদ্যালয়টিতে প্রায় তিন হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। থাইল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা সহিংস ঘটনার ধারাবাহিকতায় এটি একটি নতুন সংযোজন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নন্তাবুরির এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি থাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

