রংপুরে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের সর্বশেষ তথ্য

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক। গত ২২ আগস্ট দিবাগত রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানান, নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা ও আগমনী চক্রবর্তীর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, নমুনাগুলো মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং সেখান থেকেও ধর্ষণের কোনো প্রমাণ বা চেষ্টার আলামত মেলেনি।

চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস আরও জানান, নিহতদের শরীরে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা কাটাছেঁড়ার চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, তাদের শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পূর্বমুহূর্তে ধস্তাধস্তির কারণে শরীরে কিছু ফোলা চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া, মরদেহগুলোর মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন মরদেহ পড়ে থাকার কারণে পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চেহারায় এমন পরিবর্তন হয়েছে। কোনো রাসায়নিক বা অ্যাসিড ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাদের চোয়াল ভাঙারও কোনো আলামত নেই।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার রাতে গণপতির বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানে বাধা দেওয়ার জের ধরে গণপতিসহ তার পরিবারের সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১ টায় দিকে মাছুয়াপাড়ার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগমনীচক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সংগ্রহ করা সোয়াবের নমুনা মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ’’ এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা বা এ ধরনের কোনো আলামতও মেলেনি বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুতরাং আমরা বলতে পারি তারা ধর্ষণের শিকার হননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটিয়েছে, সেই প্রসঙ্গে চিকিৎসক বলেন, ‘‘ভারি কোনো অস্ত্রের আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হত্যার পূর্ব-মুহূর্তে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি বা ধস্তাধস্তির আঘাতপ্রাপ্ত ফোলা চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শরীরের কোনো কাটা ছেড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।