ফুটবলের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুতি এবং একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ তুলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন একদল প্রভাবশালী বর্তমান ও সাবেক ফুটবলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘আর নয়, এবার যথেষ্ট হয়েছে।’ ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই প্রতিবাদী দলে রয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনালের সাবেক ডিফেন্ডার মিকেল সিলেভেস্ত্রে, ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলার ও ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ, সাবেক গোলকিপার ডেভিড জেমস এবং ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী তারকা ইমানুয়েল পেটিট। ‘ফিফা লেজেন্ডস’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত অনেক তারকাও এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্ব খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা আরও বলেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থ ও ফুটবলের স্বার্থের পার্থক্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই ফুটবলের ভবিষ্যতের স্বার্থেই ফিফার কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।
তবে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই সমালোচনার বিপরীতে ভিন্নমতও রয়েছে। ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও চেলসি-বার্সেলোনার সাবেক তারকা স্যামুয়েল ইতো সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পক্ষ নিয়েছেন। ইতোর মতে, ইনফান্তিনো কোনো ভুল করেননি এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মূলত এসব বিতর্কের অবতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ভুল কিছু করেছেন। সামনে নির্বাচন আসছে বলেই এসব হচ্ছে, এটুকুই।’
ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে ইতো আরও যোগ করেন, তিনি বিশ্ব ফুটবলের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে যেসব উন্নয়নশীল দেশের আগে সুযোগ ছিল না, তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে তিনি ফুটবলকে বদলে দিয়েছেন। এদিকে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখেও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

