নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ৪১ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং একাধিক পরিবার রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বিধ্বস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী কারা সেভেরিনো নামে একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন; তিনি গোসাইকুন্ডা এলাকায় অন্য হাইকারদের সঙ্গে ছিলেন এবং পায়ে হেঁটে কাঠমান্ডু ফেরার চেষ্টা করছেন।
নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা কয়েক শ ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ভূমিধস ও বন্যার স্রোতে রাস্তা, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, হিমবাহের বিশাল অংশ ধসে পড়ার কারণেই এই আকস্মিক জলপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অনেক স্বজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেপালে পৌঁছেছেন। নিউক্যাসলের র্যাঙ্কিন পার্কের রেশমা প্যাটেল (৪৬) সীমান্তের একটি অভিবাসন ভবনে সর্বশেষ অবস্থান করছিলেন। তার স্বামী রেশমার সন্ধানে শুক্রবার নেপালে গিয়েছেন। এছাড়া সিডনির বারডিয়ার সুমি অধিকারীর আইফোনের লোকেশন অনুসরণ করে তার স্বামী কৈলাশ মনসোয়ার নেপালে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
- শৈলজা মুরালিধরন (৪২), তার স্বামী চন্দ্রশেখরন (৪৭) এবং তাদের দুই ছেলে অশ্বিন (১৪) ও আরুশ (১১) হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চারস-এর একটি দলের সঙ্গে ছিলেন।
- বুধবার সকালে পরিবারের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়, তখন তারা নাশতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সীমান্তে অভিবাসন প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
- এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
মুরালিধরন পরিবারের মতো আরও বহু পরিবার নিখোঁজদের অপেক্ষায় দিন গুনছে। যে পর্যটক দলের সঙ্গে তারা ছিলেন, সেই দলের ১৫ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪১ জনের মধ্যে অন্তত ৩২ জন দুর্গম চূড়া পরিদর্শনে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
- চেরিব্রুকের শ্রীধরন ও লক্ষ্মী আইয়ার এবং তাদের দুই ছেলে ঋষভ (২৩) ও রুদ্র (২০) নিখোঁজ হয়েছেন। ঋষভ নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রুদ্র ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছেন।
- পশ্চিম সিডনির ভেঙ্কটরামন বালাকৃষ্ণন (৫২) ও তার স্ত্রী চিত্রা ভেঙ্কটরামন (৪৬) নিখোঁজ হয়েছেন; তাদের ছেলে জানিয়েছেন, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে থাকাকালীন বাবা-মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল।
- নিখোঁজদের তালিকায় আরও রয়েছেন উমেশ শর্মা (৫৫) ও কৃষ্ণ শর্মা (৫০)।
- রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের সদস্য ও ব্রিসবেনের বাসিন্দা করণ ভরদ্বাজ (৪০) ‘কৈলাস জার্নি’ ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন, তার বোন জেন নাই তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছেন।
কুইন্সল্যান্ডের কানাগামাহ সুন্দরসান কৈলাস পর্বত ভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তার মেয়ে স্বাতিকা কান্নিয়াহ জানান, তারা অধীর আগ্রহে বাবার ফেরার অপেক্ষায় আছেন। নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় অস্ট্রেলিয়ার নেপালি সম্প্রদায়ও পাশে দাঁড়িয়েছে। মেলবোর্নসহ বিভিন্ন শহরে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি প্রান্তে এখন স্বজনদের একটাই প্রার্থনা—প্রিয়জনরা যেন কোথাও আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকেন এবং দ্রুত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। চাকরির আরও তথ্য: সীমান্তের প্রক্রিয়া শেষ করে তিব্বতের পথে যাওয়ার কথা। চাকরির আরও তথ্য: সন্তানদের নিয়ে জীবনের কাঙ্ক্ষিত এক তীর্থযাত্রা। চাকরির আরও তথ্য: কিন্তু সেই সকালের পর থেকে মুঠোফোনের ওপাশে আর কোনো কণ্ঠ নেই। চাকরির আরও তথ্য: এরই মধ্যে স্বস্তির একটি খবরও এসেছে। চাকরির আরও তথ্য: নিখোঁজ ৪১ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও, তিনটি ট্যুর কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৩২ জন এই দুর্গম চূড়াটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। চাকরির আরও তথ্য: বন্যার কয়েক মিনিট আগেও সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। চাকরির আরও তথ্য: পরিবার ও বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তথ্য চেয়েছেন।
চাকরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- চাকরির আরও তথ্য: ও রুদ্র (২০)-এরও কোনো খোঁজ নেই। পরিবারের বন্ধুদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, দুই ছেলেই চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছেন। ঋষভ নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে এবং রুদ্র ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পশ্চিম সিডনির ভেঙ্কট।

