এশিয়ান গেমসে ফাইনালে ভারত, শেফালির বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

জাপানের নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমস নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নারী দলের বিপক্ষে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। শেফালি ভার্মার বিধ্বংসী শতকে ভর করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১১৪ রানের এই জয়ে ভারত সরাসরি স্বর্ণপদকের লড়াইয়ের টিকিট নিশ্চিত করেছে, যেখানে মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। গত হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে এই ম্যাচে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের ব্যাটাররা আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার ওপেনিং জুটি পাওয়ারপ্লেতে তোলে ৭২ রান। এই ইনিংসের মাধ্যমে স্মৃতি মান্ধানা নারী টি-টোয়েন্টিতে সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ভারত যখন দলীয় ৫০ রানের কোটা পার করে, তখন স্মৃতির ব্যাট থেকে আসে তার ক্যারিয়ারের ১০০তম টি-টোয়েন্টি ছক্কা। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে মান্ধানা (৩৭) আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর শেফালির সঙ্গে হারমানপ্রীত কৌরের ৯৪ রানের জুটি ভারতের স্কোরকে দেড়শর কাছাকাছি নিয়ে যায়।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে মারুফা আক্তারের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন শেফালি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল নয়টি ছক্কার মার। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ৪০ রান করে রাবেয়া খানের বলে স্টাম্পড হন। রিচা ঘোষ খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। শেষ দিকে মারুফা আক্তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও শেফালি নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভারতকে ১৯৯ রানের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের পক্ষে সানজিদা আক্তার মেঘলা ১টি উইকেট নেন।

রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতের বোলিং তোপের মুখে পড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছেন। দিলারা আক্তার ও নিগার সুলতানার তৃতীয় উইকেটের ২৯ রানের জুটিটিই ছিল একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। জন্মদিন পালন করা নন্দনী শর্মা বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন; তিনি প্রথম বলেই জুরিয়া ফেরদৌসকে আউট করেন। এরপর ক্রান্তি গৌড় শোভানা মোস্তারিকে প্যাভিলিয়নে ফেরান।

স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। হারমানপ্রীতের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়ে নিগার সুলতানা আউট হন। এর কিছুক্ষণ পরেই নন্দনী শর্মা পরপর দুই বলে উইকেট শিকার করে ১১তম ওভারেই বাংলাদেশকে সাত উইকেটে পরিণত করেন। দীপ্টি শর্মা শেষ দিকে আরও দুই উইকেট নিলে ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ভারতের পক্ষে দীপ্টি শর্মা ৭ রানে ৩টি, নন্দনী শর্মা ২৫ রানে ৩টি এবং শ্রী চারণী ৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।