ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি দাবি করেছে যে তারা তাদের জলসীমার আকাশে প্রবেশ করা একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত হয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে “শত্রুতামূলক নজরদারি অভিযান” চালাচ্ছিল। এটি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং ধ্বংস করা হয়।
এমকিউ-১ ড্রোন, যা সাধারণত ‘প্রিডেটর’ নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যাটোমিকস কর্তৃক নির্মিত একটি দূরনিয়ন্ত্রিত মানববিহীন আকাশযান। এটি নজরদারি ও সীমিত আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম এবং দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে পারে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এর আগেও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই ধরনের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সম্প্রতি তারা আরও জানায় যে কেশম দ্বীপের আকাশে একটি শত্রু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, যাকে তারা “মার্কিন-ইসরায়েলি নজরদারি কার্যক্রম” হিসেবে অভিহিত করে।
আইআরজিসি অতীতেও একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যার মধ্যে এমকিউ-৯ রিপারসহ বিভিন্ন নজরদারি ড্রোন উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইরানের এমন দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার করে না। ফলে এই সর্বশেষ ঘটনার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে তাদের আকাশ ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত এবং যেকোনো অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
