ট্রাম্প-খামেনি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ট্রাম্প-খামেনি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

By ~ June 7, 2026 ~ 1 min read

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির সঙ্গে একটি বৈঠককে নিজের জন্য ‘সম্মানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে সাক্ষাতের যে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি।

শুক্রবার সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, "এমন কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, "ইরানের বিরুদ্ধে যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসন চালানো হয়, তাহলে ওয়াশিংটন একটি অন্ধকার ও অন্তহীন সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মার্কিন প্রশাসন খুব ভালো করেই অবগত যে, আলোচনার ব্যয় যুদ্ধের ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম।

ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে রেজায়ি বলেন, যদি যুদ্ধ এবং অবরোধের পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে ইরান এই সংঘাতকে আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত প্রসারিত করবে। এর ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান লক্ষ্য করে চালানো যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সমগ্র অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে কমপক্ষে ১০০টি সফল পাল্টা আঘাত হেনেছিল। একই সময়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

চলমান এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করে খামেনির উপদেষ্টা মন্তব্য করেন যে, আলোচনার সুযোগ এখন আমেরিকার হাতে। তবে ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য ইরানের ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসবে না। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর অবিশ্বাস দূর করার জন্য ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প ইরানের উত্তরের অপেক্ষায় আছেন—এমন দাবির জবাবে রেজায়ি বলেন, ইরান তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির জন্য সুস্পষ্ট দাবি জানালেও মার্কিনিরা এ বিষয়ে অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এই অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তিই হবে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার সর্বনিম্ন পরীক্ষা।

পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তেহরান আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী এবং এনপিটি (পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) মেনেই কাজ করছে। তবে যেহেতু ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করেছিলেন, তাই তার সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই এবং বর্তমানে এই বিষয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে রেজায়ি উল্লেখ করেন যে, এই জলপথ বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ হলেও, যদি সেখানে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হয় অথবা সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যেহেতু এই প্রণালি ইরান ও ওমানের অংশ, তাই সেখানে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে।

একইসঙ্গে কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তারা শুধুমাত্র কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন। যদিও প্রতিবেশী কিছু দেশ শত্রুদের জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, ইরান কেবল মার্কিন স্বার্থ এবং ঘাঁটিগুলোতেই পাল্টা আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রেজায়ি বলেন, এই সংঘাত প্রমাণ করেছে যে প্রচলিত যুদ্ধের যুগ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরিচালিত অসম যুদ্ধ (অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার) অনেক বেশি কার্যকর।

ইরানের সামরিক শক্তি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্ব যাতে ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি প্রত্যক্ষ করতে পারে, সেজন্য তারা মূলত মার্কিন স্থল অভিযানের অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ ইরানের স্থল বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী।

X

Stay tuned

Subscribe to our newsletter for updates, tutorials, and stories.