১৮ বছরের কম বয়সিদের মোবাইল ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী

১৮ বছরের কম বয়সিরা যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। আমরা চেষ্টা করছি যেন ১৮ বছরের কম বয়সিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। এটি কেবল সরকার বা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং এক্ষেত্রে শিক্ষক সমাজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা করবেন যেন শিক্ষার্থীরা মাদকের ছোবল থেকে দূরে থাকে। অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ভুল পথে পা বাড়িয়ে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এমন কোনো শিক্ষার্থীর সন্ধান পেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তাকে ঘৃণা না করে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। কেবল আইনের হাতে তুলে দিলে অনেক সময় তারা আরও খারাপ পথে চলে যেতে পারে, তাই সঠিক কাউন্সিলিং ও পরামর্শের মাধ্যমে তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অল্প বয়সে নানা ধরনের প্রলোভন সামনে আসতে পারে। তবে আমাদের সবাইকে সেই প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আজকের অভিষেক অনুষ্ঠানে যারা নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফলতা কামনা করেন তিনি।

রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল রাজশাহী বা বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আপনারা এই গর্বিত প্রতিষ্ঠানের অংশ, তাই আপনাদের কথাবার্তা, আচরণ ও মূল্যবোধ যেন অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হয়। এই কলেজ যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তা পরবর্তীতে সারা দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি।