ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণ চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে রাজধানীর আদাবর-শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ছিনতাই এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) এবং মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
ঢাবি শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনা
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে রাত ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি সরু গলিতে নিয়ে তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলো চক্রের সদস্যরা
ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম জানান, ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনতে পায় এবং দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জাহিদ হোসেন নামে একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চক্রের কার্যক্রম ও মূল পরিকল্পনাকারী
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ভোরের দিকে আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু করত। বাজারে পণ্য কিনতে বা মালামাল আনতে যাওয়া একাকী ব্যক্তিদের অপহরণ করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী। তার এবং আরও দুজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল করিম আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তারা অন্য কোথাও একই ধরনের অপরাধ করেছে কি না এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, অপহরণের পর ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এরপর বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হতো। টাকা হাতে পাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যেত।
