মাটিরাঙ্গায় আমন বীজতলায় বিপর্যয়, মশারির ঢাকনাতেও রক্ষা পেল না চারা

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যার কবলে পড়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক কৃষকই নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, তেমনি আমন চাষে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার চড়পাড়া অঞ্চলের কৃষক সিদ্দিক মিয়া তার বীজতলা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। অতিবৃষ্টি থেকে চারা বাঁচাতে তিনি লোকজনের বাড়ি থেকে চারটি পুরনো মশারি সংগ্রহ করে বীজতলার ওপর ঢেকে দিয়েছিলেন। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টির দাপটে সেই শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় তার বীজতলার সিংহভাগ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। সিদ্দিক মিয়া জানান, নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে যে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে, তা তার মতো প্রান্তিক কৃষকের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

একই অবস্থা আমতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আলমগীরের। তিনি ধার-দেনা করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় তার সব চারা ডুবে পচে কাদা হয়ে গেছে। তিনি জানান, নতুন করে বীজ কেনার টাকাও তার হাতে নেই এবং মৌসুমের সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে বিনামূল্যে বীজ বা চারা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় মাটিরাঙ্গায় মোট ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন বীজতলা আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বন্যার পানিতে ৩১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ১২ দশমিক ৫ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলার অন্তত ৪২৫ জন কৃষক এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠকর্মীরা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত নতুন করে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা এলে তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh