তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাবে রাজধানীসহ সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ তলানিতে নেমে এসেছে, যার ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না যানবাহন চালকেরা।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে তীব্র দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। খোলা থাকা স্টেশনগুলোর সামনে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ সারি। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক চালক জানান, ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনগুলোতে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কম থাকায় চাহিদামতো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ধীরগতির কারণে এক একটি গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনেক স্টেশন সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছে, আবার কোনো কোনো স্টেশন সাময়িকভাবে বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছে।
পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস জানিয়েছে, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে হঠাৎ কারিগরি ক্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিনের স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার ওপর। তবে গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে আশ্বাস দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

