পারেদেসের শাস্তির বিপক্ষে গাভি, করলেন উদার মন্তব্য

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ এখনও কাটেনি। বিশেষ করে ম্যাচ শেষে বোকা জুনিয়র্স মিডফিল্ডার লিওয়ান্দ্রো পারেদেস ও স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভির মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পর গাভি তাকে থামাতে এগিয়ে এলে পারেদেস তাকে জোরালো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

তবে এই ঘটনার পর এক চমকপ্রদ ও উদার মন্তব্য করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী গাভি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পারতিদাজো ‘দে কোপে’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি পারেদেসের কোনো প্রকার শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা চান না। যদিও শিশুদের জন্য ফুটবলারদের আচরণ অনুকরণীয় হওয়া উচিত বলে তিনি স্বীকার করেন, তবুও বিষয়টিকে তিনি মাঠের লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন।

গাভি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মোটেও মনে করি না যে পারেদেসকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমি বুঝি, এটি শিশুদের সামনে খুব একটা ভালো কিছু উপস্থাপন করে না। তবে ফুটবলের একটি শারীরিক ও আগ্রাসী দিকও রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের মধ্যেই ওকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল, আর বিষয়টি সেখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।’ খেলার আবেগ ও মাঠের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘দিনশেষে, এটা ফুটবল এবং আমার মনে হয় এই বিষয়গুলোকে মাঠের ফুটবল হিসেবেই দেখা উচিত।’

উল্লেখ্য যে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে ফিফা বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে আঘাত বা সহিংস আচরণের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। এছাড়াও নাহুয়েল মোলিনাকে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রিকে ঘুষি মারার অভিযোগে এবং সেমিফাইনালে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের জন্যও আর্জেন্টাইন দল বড় ধরণের শাস্তির মুখে পড়তে পারে। তবে নিজে আক্রান্ত হওয়ার পরেও গাভির এমন উদার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটবল বিশ্বে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত