ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বন্দিদের পালানো ঠেকাতে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছে। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলম্যান কুমিরকে 'বন্য প্রাণী' তালিকা থেকে পরিবর্তন করে 'বন্দিদশায় পালিত বন্য প্রাণী' হিসেবে পুনঃশ্রেণীবদ্ধ করেছেন। এই আইনি পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী কুমির ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা হলেন দেশটির কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। গত ডিসেম্বরে তিনি ফ্লোরিডার 'অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রাজ' অভিবাসন আটক কেন্দ্রের আদলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে বেন গাভির কুমিরসহ একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-জেনারেটেড ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, 'আপনারা কি পালানোর কথা ভাবছেন? পুনরায় চিন্তা করুন।' ক্যাপশনে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এবং মন্ত্রী সিলম্যান কারাগারগুলোকে কুমির দিয়ে ঘিরে ফেলার জন্য কাজ করছেন।
বেন গাভির ২০০৭ সালে বর্ণবাদে উসকানি দেওয়া এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি কঠোর আচরণ এবং গাজা অবরোধ ভাঙতে আসা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক করার সময় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মতো উগ্রবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর তথ্যমতে, গত বছর যখন বেন গাভির এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন, তখন ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি এর বিরোধিতা করেছিল। এমনকি ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিসের অনেক কর্মকর্তাও তখন এই প্রস্তাবটিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে নতুন এই প্রবিধানের অধীনে কুমিরের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটির পরিবর্তে 'নিরাপত্তা সংস্থা'র হাতে ন্যস্ত হয়েছে। বেন গাভিরের অধীনে থাকা ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস এমন একটি সংস্থা।
বুধবার স্বাক্ষরিত এই আইনে বলা হয়েছে, নীল নদের কুমির পালনের অনুমতি দেওয়া হবে যদি সেগুলো কোনো নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে থাকে এবং বন্য পরিবেশে ছাড়া না হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রীকে নিশ্চিত করতে হবে যে, নিরাপত্তা প্রয়োজনে কুমিরগুলোর উপস্থিতি আবশ্যক। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গাভির দক্ষিণ ইসরায়েলের কেতজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অনেক ফিলিস্তিনি বন্দিকে আটকে রাখা হয়েছে।

