ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জোট তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। মারিভ প্রকাশিত এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিরোধী জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৬২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের আসন সংখ্যা কমে ৪৮টিতে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কেবল নেতানিয়াহু বিরোধী কোনো দলকে ভোট দেবেন। বিপরীতে, নেতানিয়াহুর জোটের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ৩৬ শতাংশ ভোটার। এছাড়া ১২ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন এবং ৩ শতাংশ ভোটার জোটের বাইরের কোনো দলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তাও হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে দলটি গাদি আইজেনকোটের 'ইয়াশার!' পার্টির সাথে ২২টি আসনে সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। শাস পার্টিও বেশ পিছিয়ে পড়েছে; তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা কমে সাতটিতে নেমেছে, যা ২০২২ সালের ১১ আসনের তুলনায় সর্বনিম্ন। ধর্মীয় জায়োনিস্ট পার্টি চারটি আসন ধরে রাখলেও ওতজমা ইহুদিত দলের জনপ্রিয়তা কমে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট এবং বালাদ পার্টি নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩.২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা পরবর্তী সরকারে অতি-অর্থোডক্স হারেদি দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধী। প্রায় ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা এই দলগুলোকে জোটে নেওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে মাত্র ৮ শতাংশ এর পক্ষে। বিপরীতে, ভবিষ্যতের সরকারে আরব কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন ৭০ শতাংশ মানুষ।
বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ মনে করেন যে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, যেখানে ৫৫ শতাংশই এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
এদিকে, ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মারিভ ধারাভাষ্যকার শলোমো মাওজ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইসরায়েল থেকে ১৫,৫০০ জন নিট অভিবাসী চলে যান। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯,৮০০ জনে। ২০২৪ সালে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়, যখন ইসরায়েল থেকে ৮২,৮০০ জন চলে যান এবং ফিরে আসেন মাত্র ২৪,২০০ জন, ফলে নিট নেতিবাচক অভিবাসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮,৬০০ জনে।

