সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার পরিবর্তে সরকার এখন একবারে বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।
প্রাথমিকভাবে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় ছিল। তবে বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার পেছনে মূলত প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষের মতো বিষয়গুলো কাজ করছে। বিশেষ করে আইবাস (iBAS) প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা বেশ জটিল হওয়ায় প্রশাসন এখন এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।
এই নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে।
বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও, ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ভাতা নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে একযোগে যুক্ত না হয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা অনুযায়ী, ভাতা কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। সরকার এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা বিবেচনায় একটি টেকসই ও কার্যকর বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা।

