কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এর আগে, গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের ৩ মাস ১৪ দিনের মাথায় তিনি জামিনে বের হলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান। তিনি জানান, গত ২ আগস্ট রবিবার হাইকোর্ট থেকে হাফিজুর রহমানের জামিনের আদেশ হয়েছিল এবং মঙ্গলবার কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের কাগজপত্র পাওয়ার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
তদন্ত সূত্র অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরদিন সন্দেহভাজন এই আসামিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনে সন্দেহভাজন অন্যদের আটক ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, তনুর পরিধেয় জব্দ করা জামা-কাপড়ের ডিএনএ রিপোর্টে একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এই প্রোফাইলের সাথে মেলানোর জন্য গত ১৬ জুলাই আদালত দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দেন। এই দুই ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)।
এর আগে গত ৮ জুন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সাথে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশও দেয়া হয়। সার্জেন্ট জাহিদ ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে এবং সৈনিক শাহীন আলম ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তারা উভয়েই পলাতক রয়েছেন।

