কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, কানাডার দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই দূষণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে এবং একে তিনি ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই দূষণের ব্যয় মেটাতে কানাডাকে বর্তমানে যে শুল্ক দিতে হচ্ছে, তার সাথে নতুন করে বাড়তি শুল্ক যোগ করা প্রয়োজন। কানাডা তাদের বনভূমি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না এবং বনাঞ্চল ব্যবস্থাপনা ও আবর্জনা অপসারণের মতো মৌলিক কাজগুলোতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাথে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত কানাডায় ৯৩৭টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছিল, যার বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই ধোঁয়া কানাডা ও উত্তর মিনেসোটা থেকে ছড়িয়ে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুর গুণমান কমিয়ে দিয়েছে। আইকিউএয়ার-এর তথ্যমতে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল। শিকাগো ও ওয়াশিংটনের অবস্থাও ছিল বেশ উদ্বেগজনক।

কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এলিনর ওলশেউস্কি জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবিলায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের যৌথ কাজের ইতিহাস রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২০ সাল থেকে কানাডা বনাঞ্চল টেকসই রাখা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এদিকে, এই বায়ুদূষণের প্রভাব পড়েছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়েও। আয়োজকরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্রেট লেকসের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস ধোঁয়াকে উত্তর-পূর্ব দিকে ঠেলে দিতে পারে, তবে রবিবারের ম্যাচের জন্য আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত