মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমার কারণ জানালেন মিয়ারশাইমার

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কেন্দ্রগুলোতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রখ্যাত তত্ত্ববিদ ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, ইরানের এই সামরিক সক্ষমতাই পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ারশাইমারের ভাষ্যমতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষামূলক সমাধান যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের হাতে নেই। বাস্তবতা হলো, এসব অস্ত্রের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব ঘাঁটিতেই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে অথবা সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটিগুলো থেকে সরে গিয়ে প্রথমে জর্ডানে, সেখান থেকে ইসরাইলের অধিকৃত ভূখণ্ডে এবং শেষ পর্যন্ত ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমান সংঘাত শেষ হওয়ার পরও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এর কারণ হিসেবে তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত হুমকি এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন বাহিনীর আতিথ্য গ্রহণে অনীহাকে চিহ্নিত করেছেন।

মিয়ারশাইমারের মতে, বর্তমান মার্কিন নীতি তাদের একটি বিধ্বংসী পরাজয় নিশ্চিত করেছে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের হাতে এখন আর কোনো কৌশলগত সুবিধা বা 'কার্ড' অবশিষ্ট নেই এবং তিনি এই যুদ্ধে হেরে গেছেন। ইরান তার ভৌগোলিক সুবিধা, সামরিক কৌশল এবং রাশিয়া ও চীনের মতো মিত্রদের সহায়তায় আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।