অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের: মিরাজের ঘূর্ণিতে প্রথম টেস্টে জয়

একটি আমন্ত্রণের অপেক্ষায় ২৩ বছর দীর্ঘ সময়। যখন অস্ট্রেলিয়া অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরেকটি টেস্ট আয়োজনের সুযোগ পেল, তখন সফরকারীরা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস রচনা করল। এই স্মরণীয় টেস্টের শেষ দৃশ্যটি ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের, যিনি দেশের নতুন সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তার উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধনহারা; দুই হাত প্রসারিত করে তিনি যখন দৌড়াচ্ছিলেন, তখন তার পেছনে ইতিহাস রচিত হচ্ছিল।

এটি ছিল এই ফরম্যাটে অলরাউন্ডার মিরাজের ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব, যা আগের দিন লোয়ার অর্ডারের সাথে তার দুর্দান্ত ৬৫ রানের ইনিংসের পর এসেছে। এই পারফরম্যান্স ক্যামেরন গ্রিনের প্রথম হোম টেস্ট সেঞ্চুরিকেও ম্লান করে দেয়, যা অস্ট্রেলিয়াকে ৫৬ রানের লিড এনে দিয়েছিল। গত সপ্তাহে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এই জয় সেই সব সংশয় দূর করে দিয়েছে। ডারউইনে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসের মাঝে বাংলাদেশ ৯ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়।

চতুর্থ দিনের শুরুতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছয়টি উইকেট ছিল, যা দিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল। গ্রিন লাঞ্চ পর্যন্ত ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন, কিন্তু মিরাজ আগের দিন স্টিভ স্মিথকে আউট করার পর এদিন অ্যালেক্স ক্যারি ও বিউ ওয়েবস্টারকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। ক্যারি ডিফেন্সিভ শটে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দেন, আর ওয়েবস্টার সোজা বলে বোল্ড হন। এরপর মিরাজ প্যাট কামিন্সকেও আউট করেন, যিনি ফরওয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।

মিচেল স্টার্কের সাথে গ্রিনের ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। গ্রিন তার তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও ১০৪ রানে হাসান মাহমুদের বলে নিজের স্টাম্পেই বল টেনে আনেন। এই উইকেটের মাধ্যমে হাসান মাহমুদ, যিনি প্রথম দিনে ছয় উইকেট নিয়ে জয়ের ভিত্তি গড়েছিলেন, ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করেন। আগের দিন স্টাম্পে বল লেগেও বেল না পড়ায় বেঁচে যাওয়া গ্রিন এদিন আর ভাগ্য সহায় পাননি।

শেষ পর্যন্ত মিরাজ নাথান লিয়নকে এলবিডব্লিউ করে তার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন, যার ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হলেও মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ ও ২৮৪ (ক্যামেরন গ্রিন ১০৪; মেহেদী হাসান মিরাজ ৫-৬৬, হাসান মাহমুদ ৩-৫৬) এবং বাংলাদেশ ৪২৬ (তানজিদ হাসান তামিম ১০১, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫; জশ হ্যাজলউড ৬-৮৯) ও ৫৭/১ (মুমিনুল হক ৩০*)। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।