অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: ক্ষুব্ধ অজি কিংবদন্তিরা

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। ম্যাচের চতুর্থ দিন পর্যন্ত একক আধিপত্য বজায় রেখে বাংলাদেশ এই অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং খোদ অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা দলের এমন পারফরম্যান্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ফক্স ক্রিকেটের কভারেজে কিংবদন্তি মার্ক ওয়াহ এই ম্যাচটিকে তার দেখা ‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড় অঘটন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমার দেখা সবচেয়ে বড় ধাক্কা। তিন-চার বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যাবার জয়টি বড় অঘটন ছিল, কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ বাংলাদেশের সেরা দুই বোলার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম ছাড়াই পুরো শক্তির অস্ট্রেলিয়া দল এমন লজ্জাজনক হারের মুখে পড়েছে। র‍্যাঙ্কিং ও দলের শক্তির বিচারে এটি সত্যিই বিরাট এক অঘটন।

চ্যানেল সেভেনে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই পরাজয়কে ‘খুবই লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচকদের ওপর দল পুনর্গঠনের চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি জানান, দলে বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই। পন্টিং বলেন, আমি সাধারণত পরিবর্তনের ঘোর বিরোধী, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কাউকে না কাউকে বাদ দিতেই হবে। যদি আমরা এখানে হেরে যাই, তবে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত। হয়তো নতুন কোনো ওপেনার কিংবা ৩ নম্বরে কাউকে সুযোগ দিয়ে এটি শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে, সাবেক ব্যাটার ম্যাথু হেইডেন দল সাজানোর ভুলগুলো নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্যাম কনস্টাস ও ম্যাট রেনশকে দলে ফিরিয়ে আনার এবং ট্রাভিস হেডকে ব্যাটিং অর্ডারে ৩ নম্বরে নামানোর জোরালো দাবি জানান। হেইডেন বলেন, ওপেনিং হেডের সেরা পজিশন নয়, আমার মতে ওর সেরা জায়গা ৫ নম্বরে। অ্যালেক্স ক্যারিকে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নামানোর সিদ্ধান্তটিও আমার পছন্দ নয়, যা বেশ নড়বড়ে ঠেকছে। আমাদের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন নাজুক পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ফর্ম বনাম প্রতিভার বিচারে দল নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন।