ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম দুইটিতে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের হারের পর লর্ডসে ১৯৪ রানের পরাজয়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে দলটি। এই ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নাটকীয়ভাবে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে নতুন সাতজনকে দলে ডেকেছে এবং টেস্ট কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে হোয়াইট-বল ফরম্যাটের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্ব দিয়েছে।
দলে বড় ধরনের রদবদল
- বাদ পড়া খেলোয়াড়দের তালিকায় রয়েছেন সিনিয়র ব্যাটার ইমাম-উল হক এবং সালমান আলী আঘা—যিনি বাবর আজমের ইনজুরির সময় হেডিংলিতে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- হেডিংলিতে পাঁচ উইকেট শিকারি বাঁহাতি স্পিনার আলী ওসমান এবং পেসার খুররম শাহজাদকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
- নতুন আসা সাতজনের মধ্যে কেবল সাইম আইয়ুব এবং আবদুল্লাহ ফজলের টেস্ট খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নতুন কোচ মাইক হেসন মনে করেন, ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে পুরো দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারবে। নিউজিল্যান্ডের এই কোচ জাপানে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং রাজা চার্লসের সাথে সাক্ষাতের জন্য যুক্তরাজ্যে আসার কথা ছিল, তবে পরিস্থিতির কারণে তার সফর ত্বরান্বিত করতে হয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেসন বলেন, ‘আমি রাজার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় আমাকে আগেই আসতে হয়েছে। গত কয়েকদিন হোটেলে খেলোয়াড়দের আসা-যাওয়ার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আমার চেয়ে এই ধরনের বিশৃঙ্খলার সাথে বেশি অভ্যস্ত। তারা সবাই দারুণ হতাশ, কিন্তু আমাদের এখন অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকাতে হবে।’
হেসন আরও যোগ করেন, ‘সিরিজের মাঝপথে এমন কিছু হওয়া কারো কাম্য নয়। আমার লক্ষ্য হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা, যাতে বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য থাকে। পাকিস্তান সাধারণত তাদের গতি, অস্বাভাবিক অ্যাকশন এবং মিস্ট্রি স্পিনের জন্য পরিচিত, কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত তার কিছুই দেখাতে পারিনি।’
আগামী সপ্তাহে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টে পাকিস্তান দল তাদের হারানো ছন্দ খুঁজে পাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। হেসনের অধীনে এই নতুন স্কোয়াড কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

