পাকিস্তানি স্পিনারদের বিষে নীল মিরাজরা, ফাইনালে অ্যান্টিগা

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (সিপিএল) প্রাথমিক পর্বে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। কিন্তু প্রথম কোয়ালিফায়ারে এসেই মেহেদী হাসান মিরাজদের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। পাকিস্তানি লেগ স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মুকিমের ঘূর্ণি জাদুতে মাত্র ৭৬ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। এই হারের ফলে সরাসরি ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেলেও গায়ানা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাচ্ছে না; দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জ্যামাইকা কিংসের বিপক্ষে তাদের লড়াই করতে হবে।

ব্রিজটাউনের এই ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গায়ানা। গ্লেন ফিলিপস ও মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়ালের উদ্বোধনী জুটি থেকে ২৬ রান আসায় শুরুটা মোটামুটি ভালোই ছিল। ৭ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৪০ রান তুলে তারা শক্ত ভিতের ইঙ্গিত দিলেও এরপরই শুরু হয় পাকিস্তানি স্পিনারদের তাণ্ডব। স্রেফ ২০ বলের ব্যবধানে মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে গায়ানা তাদের শেষ ৮টি উইকেট হারিয়ে বসে। ব্যক্তিগত ১৬ রান করে শাই হোপ ও গ্লেন ফিলিপস দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ১৪ রান করলে ১৫ ওভারে ৭৬ রানে থামে দলটির ইনিংস।

অ্যান্টিগার হয়ে বল হাতে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছেন শাদাব খান ও সুফিয়ান মুকিম। ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকসহ ম্যাচসেরা হয়েছেন শাদাব। অপর প্রান্তে সুফিয়ান মুকিম ১৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করে গায়ানার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগের পর সিপিএলেও নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন শাদাব। ম্যাচে গায়ানার হয়ে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাহকিম কর্নওয়াল শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। মিরাজ নিজের ১.২ ওভারে ১০ রান দিলেও বাকি বোলাররা কর্নওয়ালের তোপের মুখে পড়েন। মাত্র ১৬ বলে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৪৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন কর্নওয়াল। অপরপ্রান্তে এভিন লুইস ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ২৩ রানে। মাত্র ৫.২ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। ৩২ বলের এই একতরফা লড়াইয়ে জয়ী হয়ে দলটি সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মুকিমের তোপে ৯ রানের ব্যবধানে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৬ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে মুকিম জোড়া উইকেটের দেখা পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরের ওভারেই বল হাতে রূপকথার এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন শাদাব খান।