মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট (এসিএল) ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসেরকে ৪-০ ব্যবধানে একতরফাভাবে হারিয়েছে আল আইন। এই দুর্দান্ত জয়ের মূল নায়ক ছিলেন দুই ভাই সুফিয়ান রহিমি ও হোসাইন রহিমি। তাদের এই পারিবারিক যুগলবন্দী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনকে মহাদেশীয় শিরোপার দৌড়ে তৃতীয়বারের মতো শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে ছোট ভাই হোসাইন রহিমি গোল করে ডেডলক ভাঙলে কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির দর্শকদের সামনে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আল আইন। ঘরের মাঠের এই শুরুর সুবিধা নিয়ে আল আইন আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। আল নাসের বেশ কয়েকবার সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আল আইনের শক্তিশালী ও জমাট রক্ষণভাগের সামনে তারা বারবার ব্যর্থ হয়। বিরতির সময় ১-০ ব্যবধান বজায় রেখেই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে নামলেও আল নাসেরের জন্য বাকি সময়টুকু ছিল আরও হতাশাজনক।
দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটের মাথায় হোসাইন রহিমি আবারও লক্ষ্যভেদ করেন, যা আল আইনের ব্যবধান ২-০ তে উন্নীত করে। এরপর বড় ভাই সুফিয়ান রহিমি তার জাদুকরী ছন্দে ফিরে আসেন এবং ম্যাচের ৭২তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। ম্যাচের বাকি ১৫ মিনিটে আল নাসেরের ওপর চাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। শেষদিকে গিওর্গোস গিয়াকুমাকিস আরও একটি গোল করলে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ের ফলে আল আইন গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে। তবে এই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার চিরচেনা জাদু দেখাতে ব্যর্থ হন, যা তার বিশ্বজুড়ে থাকা ভক্তদের দারুণভাবে হতাশ করেছে।
এসিএল এলিটের অন্য ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেক ক্লাব শাবাব আল আহলি ১-০ ব্যবধানে ইরানের ট্রাক্টর এফসিকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। রশীদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ২২তম মিনিটে ইউরি সিজার জয়সূচক গোলটি করেন। ট্রাক্টর অধিনায়ক শোজাই খলিলজাদেহ বল নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিজার জাল খুঁজে নেন। শাবাব আল আহলি প্রথমার্ধের শুরুতে বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল, যেখানে সরদার আজমুনের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং রিকলমের শট বারে আঘাত করে ফিরে আসে।
ট্রাক্টর এফসিও ম্যাচে ফেরার কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে টমিস্লাভ স্ট্রকালজ মোহাম্মদ নাদেরির পাস থেকে বল পেয়ে গোল করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার দুর্বল শট সহজেই লুফে নেন গোলরক্ষক ম্যাথিউস ডনেলি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ট্রাক্টর মরিয়া হয়ে ওঠে। ৪৮তম মিনিটে ইউরি সিজারের শক্তিশালী শট গোলরক্ষক পারসা জাফরি প্রতিহত করেন। পরবর্তীতে ৫৮তম মিনিটে সিজারের বাড়ানো পাস থেকে সাঈদ এজাতোলাহি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিলে ব্যবধান আর বাড়েনি। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মোহাম্মদ দানেশগারের হেড বারে লেগে ফিরে এলে সমতায় ফেরা হয়নি ট্রাক্টরের।
শাবাব আল আহলির কোচ আন্দ্রে জারদিন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লক্ষ্য অর্জিত হলেও ব্যবধান আরও বাড়ানো যেত, কারণ তারা ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আধিপত্য বজায় রেখেছিল। জারদিন স্বীকার করেন যে প্রথম ৩৫ মিনিট তারা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিরতির ঠিক আগে খেলার গতি কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিলেন, যা সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর একটি পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ও পরবর্তী ধাপ
- এসিএল এলিটের ১৬ দলের পূর্বাঞ্চলীয় লিগ পর্যায় থেকে সেরা আট দল নকআউট রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে।
- টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।
- এই চূড়ান্ত পর্বগুলো ২০২৬ সালের এপ্রিল এবং মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
- শাবাব আল আহলি গত আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল, এবার তারা শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।
সামগ্রিকভাবে, রহিমির দুই ভাইয়ের অসাধারণ নৈপুণ্য এবং শাবাব আল আহলির কৌশলী ফুটবল আরব আমিরাতের ক্লাব ফুটবলের জন্য এই সপ্তাহের বড় প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসিএল এলিটের মতো বড় আসরে রোনালদোর মতো কিংবদন্তির দলের বিপক্ষে এ ধরনের জয় এশিয়ার ফুটবল মানচিত্রে আল আইনের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে তারা কতটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।

