জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এবারের আসরের শুরুতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে খুলনা বিভাগ। মাত্র তৃতীয় দিনেই তারা বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে ইনিংস ও ১৩৫ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে। প্রথম ইনিংসে খুলনার পাহাড়সম ৪২৬ রানের জবাবে বরিশাল মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বরিশালের ইনিংস শেষ হয় ১৯৭ রানে। তাদের হয়ে হাফিজুর রহমান ৯১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। খুলনার বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি কেউ। সফর আলী একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া শেখ পারভেজ জীবন ৩টি ও সামিউন বশির রাতুল ২টি উইকেট নেন। সফর আলী একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। স্রেফ তৃতীয় দিনেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেল।
এদিকে ঢাকা ও রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটি এখন নাটকীয় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। রংপুরের ৩৪০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল ঢাকা। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটি ২৬৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সপ্তম উইকেটে ১২৬ রানের জুটি গড়েন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। তাইবুর ২০৮ বলে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি (১০৮ রান) পূর্ণ করেন। সুমন খান সেঞ্চুরি মিস করলেও ৯৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। রংপুরের বোলার স্বাধীন ইসলাম, আবু হাশিম, ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দুটি করে উইকেট লাভ করেন। ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে দিন শেষ করা দলটি গতকাল তাইবুর রহমান ও সুমন খানের অবিশ্বাস্য দৃঢ?তায় ঘুরে দাঁড়ায়। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুজনে যোগ করেন মহামূল্যবান ১২৬ রান। এই দুজনের ব্যাটে ভর করে ২৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায় ঢাকা।
প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানের লিড পেলেও নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বড় বিপর্যয়ে পড়েছে রংপুর। ঢাকার বোলিং তোপে মাত্র ৬ রান তুলতেই তারা ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। তৃতীয় দিন শেষে রংপুরের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২ রান, যার ফলে তাদের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ৬২ রানে। ম্যাচটি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

