ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ ধরে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ডারউইনে পাওয়া এই জয়কে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। মিরাজ মনে করেন, এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পরবর্তী ভেন্যু ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়া দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারে, তাই তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

ডারউইনের এই টেস্টে মিরাজের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে টেলএন্ডারদের সাথে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক হাঁকানোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি পাঁচ উইকেট শিকার করেন। তার এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৫৭ রান, যা চতুর্থ বিকেলে অনায়াসেই টপকে যায় টাইগাররা। মিরাজ জানান, তার ক্যারিয়ারের ১২টি পাঁচ উইকেটের মধ্যে ডারউইনের এই পারফরম্যান্সকেই তিনি সেরা হিসেবে গণ্য করছেন। স্পিনার হিসেবে এমন কন্ডিশনে পাঁচ উইকেট পাওয়া তার কাছে আশীর্বাদের মতো মনে হয়েছে।

ম্যাচ জয়ের প্রতিক্রিয়ায় মিরাজ বলেন, এমন জয় সত্যিই অবিশ্বাস্য। কন্ডিশন বিবেচনায় অনেকেই হয়তো ভাবেননি বাংলাদেশ জিতবে, কিন্তু দলের সবার বিশ্বাস ছিল। তিনি জানান, সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা এবং সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন। তবে আপাতত পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। ব্যাটিংয়ের সময় তার লক্ষ্য ছিল বোলারদের সাথে জুটি বেঁধে বড় লিড নেওয়া, আর বোলিংয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

এই সাফল্যের পেছনে দলের টিম ম্যানেজমেন্টের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন মিরাজ। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দলের মনোবল ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মিরাজ জানান, দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল তাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে অনেক সহায়তা করেছেন। এমনকি নেটে তাকে বোলিং করেও সাহায্য করেছেন নাফিস।

এছাড়া মুশতাক আহমেদের অবদানের কথা স্মরণ করে মিরাজ বলেন, প্রথম ম্যাচ হারের পর তিনি প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাছে গিয়ে বিশ্বাসের কথা বলেছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন যে, বিশ্বাস করলে জয় সম্ভব। সেই ছোট ছোট অনুপ্রেরণা থেকেই আজকের এই সাফল্য এসেছে। দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে পুরো ম্যানেজমেন্টের কৃতিত্ব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ঐতিহাসিক জয়ের পর কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা মিরাজকে দারুণভাবে আপ্লুত করেছে। বিশেষ করে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সাথে কথোপকথনের বিষয়টি তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন। মিরাজ বলেন, গিলক্রিস্ট তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে বাংলাদেশ দল সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। এমন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড় প্রাপ্তি। গিলক্রিস্ট আরও বলেছিলেন, তারা কল্পনাও করতে পারেননি বাংলাদেশ এমন চমৎকার ক্রিকেট খেলতে পারে।