নিউল্যান্ডসে সিরিজের শেষ দিনের শুরুতে তিন ফলাফলেরই সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু দুপুরের আগেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিং এবং সাইমন হারমারের স্পিন জাদুতে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। এর ফলে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানের বিশাল জয় পায়। এই জয়ের মাধ্যমেই তারা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় এবং আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান পুনরুদ্ধার করে।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। অসুস্থতার কারণে গত দুদিন মাঠের বাইরে থাকা রাবাদা প্রথম ওভারেই ম্যাট রেনশকে ফেরান এবং তিন বল পর মারনাস ল্যাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। এরপর সপ্তম ওভারে ট্রাভিস হেডকে আউট করে নিজের ৩৫০তম টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রাবাদা। ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন অস্ট্রেলিয়া চরম বিপর্যয়ে পড়ে।
দ্বাদশ ওভারে আক্রমণে এসে সাইমন হারমার পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বল ঘোরাতে শুরু করেন। এরপর জশ ইংলিস রান আউটের শিকার হন। হারমার তার ১৮তম ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিকে এবং পরে কুপার কনোলিকে সাজঘরে ফেরান। লাঞ্চের ঠিক আগে মিচেল স্টার্কও ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়া ৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে।
লাঞ্চের পর ক্যামেরন গ্রিন ও প্যাট কামিন্স কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও হারমারের ঘূর্ণি তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। গ্রিন ২৭ রান করে হারমারের বলে বোল্ড হন। কামিন্স ও নাথান লায়ন নবম উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়লেও শেষ পর্যন্ত হারমারই কামিন্সকে এলবিডব্লিউ করেন এবং জশ হ্যাজলউডকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ১১১ রানে শেষ করে দেন। ২১.১ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে হারমার ইতিহাস গড়েন, তিনি কেপ টাউনে ১০ উইকেট পাওয়া প্রথম প্রোটিয়া স্পিনার। রাবাদা ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন।
এই জয়ের ভিত অবশ্য তৈরি হয়েছিল চতুর্থ দিনে রায়ান রিকলটন এবং উইয়ান মুল্ডারের ব্যাটে। তাদের জোড়া সেঞ্চুরি ও ষষ্ঠ উইকেটে ১৫৪ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদমুক্ত করেছিল। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের মার্চের পর এই প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজ হারল অস্ট্রেলিয়া। এই হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড, আর অস্ট্রেলিয়া এই চক্রে প্রথমবারের মতো সেরা দুইয়ের বাইরে চলে গেছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ ও ৩৮৭; অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ ও ১১১ (নাথান লায়ন ৩৩*, হারমার ৬-১৬, রাবাদা ৩-৩৯)। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে জয়ী।

