খাগড়াছড়ির নালকাটা-প্রদীপ পাড়া সড়ক: সাত কিলোমিটার পথজুড়ে চরম ভোগান্তি

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার নালকাটা থেকে প্রদীপ পাড়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তাটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে সড়কটিতে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কাজ শেষ করেই তা ফেলে রেখে চলে যায়। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মিত অংশটুকুও এখন নষ্ট হয়ে গেছে এবং পুরো সড়কটি বড় বড় খানাখন্দে ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট। এছাড়া প্রদীপ পাড়া, মধু পাড়া, পুনরায় পাড়া ও শুকনাছড়িসহ সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রদীপ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হরি কমল ত্রিপুরা ও মধু পাড়ার বীরেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ মাঝপথে ফেলে রাখায় সড়কটির মেকাডাম উঠে গিয়ে এখন বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। তারা দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন। রাম কানাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমেধা চাকমা বলেন, রাস্তাটি পাকা না কাঁচা তা বোঝার উপায় নেই। প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউটি মং কনস্ট্রাকশনের মালিক ইউটি মংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ জানান, সড়কটির কাজ ইউটি মং নামের ঠিকাদারের অধীনে ছিল। তিনি সড়কের বেইস পর্যন্ত কাজ করে আর অগ্রসর হননি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজ শেষ না করায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার চুক্তি বাতিল এবং জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে বাকি কাজের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে এবং এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আগামী মাস থেকেই নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসীর বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগটি সঠিক নয়। ঠিকাদার যতটুকু কাজ সম্পন্ন করেছেন, কেবল ততটুকু কাজেরই বিল তাকে পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নালকাটা থেকে প্রদীপ পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৬-৭ বছর আগে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কাজ করে তা ফেলে রাখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হলে আমাদের জন্য খুবই সুবিধা হবে।