চোরাচালান মামলার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি যুবদল নেতা, তবুও সরকারি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় একটি চোরাচালান মামলা রয়েছে। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। এসব আইনি জটিলতার পরও তিনি সুবর্ণচর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পান। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন আয়োজনে তাঁকে অতিথি হিসেবেও দেখা গেছে। কেবল তাই নয়, প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিও হন তিনি। বেলাল হোসেন উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১১-১৬ সাল পর্যন্ত একই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্থানীয়ভাবে তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন বলেও জানা গেছে। হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র নাথ ওই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর বেলাল হোসেনকে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওসি রফিকুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দিন আগে চরজব্বার থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি এসে পৌঁছায়। তবে বুধবার বেলাল হোসেন নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেনও জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর ভাষ্যমতে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসাতে এই মামলায় নাম ঢুকিয়েছে। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে রড ও সিমেন্টের ব্যবসা করছেন এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহানের হয়ে কাজ করার কারণেই প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, মামলার বিষয়টি আগে জানা থাকলে আইনি ফয়সালার আগে কোনো সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন না। তিনি পেশায় খাসেরহাট বাজারের একজন রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী।

২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার কালাবাহাদুর বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও কোমল পানীয়সহ একটি নৌকা আটক করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় করা মামলায় বেল্লাল হোসেনকে আসামি করা হয়। ১০ মে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে সাতজন আসামির নাম রয়েছে। সেই তালিকাটি নিম্নরূপ আদালতে দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে যুবদল নেতা বেলাল হোসেনের (৪৫) নাম রয়েছে ৭ নম্বরে।

  1. নাম রয়েছে ৭ নম্বরে। বাকি ছয় আসামি হলেন মো. হান্নান (৪৯), ইকবাল হোসেন (১৯), মো. রাশেদ রহমান (৫৫), আইয়ুব নবী (৩৯), মাহে আলম
  2. ও এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বার
  3. এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থল থেকে কোস্টগার্ডের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বেলাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই সদস্য বর্তমানে সুবর্ণচরের খাসেরহাট বাজারে ব্যবসা করেন। তবে এই মামলা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা নেই বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।