আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে মাঠ ছাড়েন এই ফুটবল জাদুকর। নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসি একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করিয়েছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় ২০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১২৬ গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু সেই দিনটা শেষ পর্যন্ত এসেই গেল।’। সারা বিশ্বের সামনে আর্জেন্টিনার পতাকাকে সর্বোচ্চ জায়গায় তুলে ধরার জন্যও ধন্যবাদ। মেসি তখন ২০০৫ সাল থেকেই জাতীয় দলের সদস্য।
মেসির এই বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ডি মারিয়া লেখেন, ‘আমি তোমার প্রজন্মে জন্মাতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এতদিন তোমার পাশে থেকে ফুটবল উপভোগ করেছি। তুমি আজ এমন একটি দরজা বন্ধ করলে যা কোনো আর্জেন্টাইনই বন্ধ হতে দেখতে চায়নি।’ বন্ধুত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জন্য তুমি যা করেছ তার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। ১৮ বছর ধরে তোমার পাশে খেলার সুযোগ হয়েছে, অনেক স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছি। আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ এবং তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’
ডি মারিয়ার সঙ্গে মেসির ১৮ বছরের এই পথচলা আন্তর্জাতিক ফুটবলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকে ডি মারিয়া ও মেসি একই জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জুটির রসায়ন আর্জেন্টিনাকে চার বছরে চারটি বড় শিরোপা এনে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়। ডি মারিয়ার এই ১৮ বছরের সঙ্গের কথাটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ২০০৮ থেকে প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে দুজনকে একই আকাশি-সাদা জার্সিতে দেখা গেছে।
এই সাফল্যযাত্রায় ডি মারিয়া রেখেছেন অনবদ্য অবদান। ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি ছিল তার। এরপর ফিনালিসিমার ফাইনালেও গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ডি মারিয়ার পা থেকে। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি তিনি নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোল দুটিতেও সহায়তা করেন। মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনার এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যেখানে বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ থেকে শুরু করে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিরোপা জয়ের মতো অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত জড়িয়ে আছে। তার এই বিদায়ে যেন একটি পুরো প্রজন্মের ফুটবল গল্পের শেষ পৃষ্ঠাটি লেখা হলো।

