ঢাকার ধামরাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী ও এক শিশুসহ মোট তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন যাত্রী। নিহতরা হলেন সিএনজিচালক জুয়েল (৪০), যাত্রী আঁখি আক্তার (৩০) এবং তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা সংলগ্ন আরবিসি ব্রিকসের পাশের পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় কালামপুরগামী একটি অটোরিকশার সঙ্গে সাটুরিয়া অভিমুখী একটি অজ্ঞাত পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান জানান, দুপুর ২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিনজন অচেতন ছিলেন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালক জুয়েল ও শিশু জাকারিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আঁখি আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতিকালে পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি চারজন হলেন আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ (৩৫), তার বাবা আবুল হোসেন (৬৫), লাকী আক্তার (৩২) এবং লাকী আক্তারের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সাদিয়া। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ জানান, পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হলেও কোনো সন্তান ছিল না। সন্তানের আশায় তারা মৈনট পীরের মাজারে মানত করতে যাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। এই দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও ভাগনেকে হারিয়ে তিনি শোকাহত। ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকসহ হতাহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রায় ১০ মিনিট পর তাদের মৃত্যু হয়।

