সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদে নিয়োগের পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৫২ ক্যাটাগরির এসব পদে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে, কিন্তু এখনো নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে আবেদনকারী প্রার্থীদের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিয়োগ পরীক্ষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন–৪) মাসুমা সুলতানা জানিয়েছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এমনকি পরীক্ষা কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো খসড়া সময়সূচিও কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেনি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং বিভাগীয় নিয়োগ প্রদান কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরীক্ষা কবে হবে, তা আমরা এখন বলতে পারব না। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আবেদনকারীর সংখ্যা ও তথ্য
নিয়োগ পরীক্ষায় কতজন প্রার্থী আবেদন করেছেন, সেই তথ্য এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। এ বিষয়ে পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, টেলিটকের কাছ থেকে আবেদনকারীর চূড়ান্ত তথ্য এখনো অধিদপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। ফলে কতজন প্রতিযোগী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, তা এখনো অজানা রয়ে গেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট
- সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২৪ সালের ২৪ মে রাজস্ব খাতভুক্ত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের ৫২ ক্যাটাগরির পদে ১ হাজার ৪৮৫ জন কর্মী নিয়োগের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
- এসএসসি থেকে স্নাতক বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা এই নিয়োগে আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন।
- আবেদন প্রক্রিয়া ২ জুন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে ২৩ জুন বিকেল ৫টায় শেষ হয়েছে।
- এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ও ৯ জুন অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। ওই দুই বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় এই সংশোধিত পুনর্নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
- আগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা প্রার্থীদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন ছিল না।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর পরীক্ষার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। মন্ত্রণালয় বলছে, সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে আবেদন করা প্রার্থীদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার জন্য এখন দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। চাকরির আরও তথ্য: অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫ পদে নিয়োগ পেতে কতজন আবেদন করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে তথ্যও তাঁদের কাছ নেই।

