নারী এশিয়া কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তানের শোচনীয় হার, রেকর্ড গড়ার ম্যাচে বিব্রতকর ব্যাটিং

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের ২০০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনে। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তারা চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তান বড় ব্যবধানে ৭ উইকেটে ম্যাচটি হেরেছে। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর থেকেই ধস নামে দলটির ব্যাটিং লাইনআপে। মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে ২৯ বলের মধ্যে তারা ৬টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল দুই ওপেনার মুনিবা আলী (১৩) ও শাওয়াল জুলফিকার (১৪)।

ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তান অসহায় আত্মসমর্পণ করে। একটি রান আউট বাদে বাকি ৯টি উইকেটই ভাগ করে নেন ভারতীয় বোলাররা; এর মধ্যে শ্রী চারানি ও প্রেমা রাওয়াত ৩টি করে এবং দীপ্তি শর্মা ২ উইকেট শিকার করেন। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেফালি ভার্মা ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান। এরপর ১ রান নিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টিতে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। যদিও অধিনায়ক ফাতিমা সানার বোলিং তোপে ভারত দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, তবে হারমানপ্রিত কৌর (১৮*) ও দীপ্তির (১২*) ব্যাটে ভর করে ৮.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাইলফলকটিও দারুণভাবে রাঙালেন হারমানপ্রিত।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের কোচ ওয়াহাব রিয়াজ দলের এমন শোচনীয় পারফরম্যান্সের পরও বিস্ময়কর আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি এই এশিয়া কাপে পাকিস্তানই সেরা দল। কন্ডিশন আমাদের অনুকূলে থাকায় তারা ট্রফি জয়ের সক্ষমতা রাখে।’ হংকংয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘দলের সব খেলোয়াড়ই দক্ষ। তাদের শুধু নিজেদের ওপর আস্থা ফেরাতে হবে। ভারতের বিপক্ষে হওয়া ভুলগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করছি যাতে তা আর পুনরাবৃত্তি না হয়।’

পুরুষ ক্রিকেট দলের অস্থিরতার মাঝে নারী দলের এই বিব্রতকর হার এবং কোচের এমন মন্তব্য দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চললেও কোচ ওয়াহাব রিয়াজ তার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের ২০০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি স্মরণীয় তো রাখাই দূরে থাক, উল্টো সর্বনিম্ন ৫৫ রানে গুটিয়ে গেল তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পর বড় ব্যবধানে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় ভারত।