যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৪০টিরও বেশি এআই-ভিত্তিক টুলের ব্যবহার বন্ধ থাকবে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় মানবিক যোগাযোগ ও শিক্ষকের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, শিশুদের যথাযথ বিকাশ ও শিক্ষার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি মানবিক মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। আগামী এক বছর এই কঠোর নীতিটি কার্যকর থাকার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ এটি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় গণিত শেখার প্ল্যাটফর্ম ‘এডিয়া’ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষার টুল ‘কুইল’ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট ব্যবহার করা যাবে। সামগ্রিকভাবে, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন ৪৫ মিনিটের কম স্ক্রিন টাইম ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার স্কোর ৬ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মার্গারেট মুরি এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অতি-নির্ভরশীলতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞাটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা দেখার জন্য পর্যবেক্ষকদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

