নিউইয়র্কে তারেক রহমানের অপেক্ষায় গ্র্যান্ড হায়াতের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল এলাকা। গত দুইদিন ধরে হোটেলের সামনে কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান করছেন, যাদের মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পাওয়া। কারও চাওয়া প্রিয় নেতার সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, আবার কেউবা একটি ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন নেতাকর্মীদের সমাগম আগে কখনও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা। হোটেলের সামনে অপেক্ষায় থাকা অনেকে বলেছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে একটি ছবি তুলতে পারলে সেটিই হবে তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় প্রাপ্তি।

নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং সবাই তার সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব। একই সুর শোনা গেল সংগঠনের সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলমের কণ্ঠে, যিনি জানান দলের সকল নেতাকর্মীর একটাই চাওয়া লিডারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ। তবে হোটেলের নিরাপত্তা ও সেখানে অবস্থানরত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে, প্রধানমন্ত্রী নিজে বারান্দা থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। গত দুই দিনে হোটেলের সামনে কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে ভিড় করতে ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সবার মতো আমরাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।

হোটেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সাধারণ নেতাকর্মীদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী কক্ষের চাবি ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে সাক্ষাতের সুযোগ না পেয়ে কানাডা পশ্চিম বিএনপির সভাপতি আহাদ খন্দকারসহ অনেকেই কিছুটা হতাশ। এছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের ওপরও কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হোটেলের সামনে অপেক্ষমাণদের তালিকায় রয়েছেন ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, বোস্টন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, ওয়াশিংটন বিএনপির সেক্রেটারি জাকির হোসেন এবং টেনেসি স্টেট বিএনপির সভাপতি ড. তরিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছানো সহজ হচ্ছে না। প্রবেশপথে ভিড়ের কারণে তাদের চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দু’একজন মন্ত্রীকে বিরক্তি প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে হোটেলের সামনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জগলু, যিনি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। হোটেলের সামনে ভিড় করা নেতাকর্মীদের অনেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী বা ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের দেখলেই ছবি তুলতে বা কথা বলতে এগিয়ে যাচ্ছেন, যা অনেক সময় সফরসঙ্গীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েও নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতার এক ঝলক দেখার আশায় হোটেলের সামনেই অপেক্ষা বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমির খসরু আঙ্কেলকে খুঁজছি।