নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে দুই দেশের সংযোগস্থল তিব্বতের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। আকস্মিক এই ঢলে সীমান্তবর্তী এলাকাটিতে পর্যটকসহ ৩৮০ জনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকা থেকে ২৮১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নুওয়াকোট জেলার বাসিন্দা ও শিক্ষক সুমন চালিসে (৩৪) জানান, চোখের সামনেই পানির তীব্র তোড়ে আট থেকে নয়টি ট্রাক, ঘরবাড়ি ও মানুষ ভেসে যেতে দেখেছেন তিনি। হিমালয়ের পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে কাদাপানির প্রচণ্ড স্রোত বয়ে যাওয়ার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌর কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এদিকে, কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের ভূ-তথ্য বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় চীন সীমান্তে অস্বাভাবিক কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নুওয়াকোট জেলার সুমন চালিসে (৩৪) নামে এক শিক্ষক বলেন, আমি নিজ চোখে পানির তোড়ে আট-নয়টি ট্রাকসহ ঘরবাড়ি ও মানুষকে ভেসে যেতে দেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কর্তৃপক্ষ তাদের সঠিক অবস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাইয়ে কাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপাল পুলিশ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে হিমালয় অঞ্চলের পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে কাদাপানির প্রচণ্ড ঢল বয়ে যেতে এবং বাড়িঘর ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল, এর আগে এমন ভয়াবহ রূপ কখনও দেখিনি।

