পদকহীন এশিয়ান গেমসে বিতর্কিত পতাকাবাহক লিটন দাস

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের পর্দা নেমেছে চীনের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে। জাপানের পালমো মিজুহো অ্যাথলেটিক পার্কে অনুষ্ঠিত জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে মার্চ পাস্টে অংশ নেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তবে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের চেয়ে কর্মকর্তাদের আধিক্যই ছিল বেশি এবং হকি দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিলে নাগোয়ায় গিয়ে আবার গিফুতে ফিরতে হবে।

এবারের আসরে বাংলাদেশ ২২টি ডিসিপ্লিনে মোট ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ পাঠিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আয়োজনের পর প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্যই থেকেছে। উশুতে পাওয়া একটি ব্রোঞ্জ পদক ছাড়া আর কোনো সাফল্য নেই। ৩৭টি পদকজয়ী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে সবার নিচে। এমনকি মাত্র ১০টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া নেপালও দুটি ব্রোঞ্জ জিতে বাংলাদেশের উপরে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই ব্যবধান স্পষ্ট; যেখানে ভারত ২২টি স্বর্ণসহ মোট ৮৭টি এবং পাকিস্তান দুটি রৌপ্যসহ ১০টি পদক জিতেছে। শ্রীলঙ্কাও একটি করে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে। ভারত ২২ সোনাসহ জিতেছে ৮৭টি পদক। ২২ ডিসিপ্লিনে ১৮৭ ক্রীড়াবিদকে নিয়ে জাপানে এসেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের ব্যবধানটা চোখে পড়ার মতো।

সমাপনী অনুষ্ঠানে হকি দলের অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলটির ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্স জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চ পাস্টেও তাদের সুযোগ দেয়া হয়নি এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে খেলোয়াড়দের ওপর ধকল বাড়বে, কারণ পরের দিনই তাদের দেশে ফেরার ফ্লাইট। তবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা এ ঘটনাকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দেশে ফিরে সব দলের শৃঙ্খলা পর্যালোচনা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চার দিন পর আমাদের খেলা ছিল। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন চাইলে রাখতে পারতো। তারা আসেনি, তারা যা করেছে সেটা শৃঙ্খলা পরিপন্থী।

এদিকে ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার পরও লিটন দাসকে পতাকাবাহক হিসেবে মনোনীত করায় সমালোচনা চলছে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হার এবং ব্রোঞ্জের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ে প্রথমবারের মতো পদকহীন ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পুরো টুর্নামেন্টে লিটনের ব্যাট থেকে দুই ম্যাচে এসেছে মাত্র ২ রান, যা তার নেতৃত্ব ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ জানান, ক্রিকেটে পদক পাওয়ার আশায় আগেভাগেই ক্রিকেট অধিনায়ককে পতাকাবাহক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। হকি দলের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে।

জোবায়েদুর রহমান রানা আরও জানান, শেষ মুহূর্তে পতাকাবাহক পরিবর্তনের জন্য অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়াকে দুটি বিকল্প নাম দেয়া হয়েছিল, কিন্তু আয়োজকরা শেষ পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি। সব মিলিয়ে, পদক খরা, ক্রিকেটের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং ইভেন্টগুলোতে অব্যবস্থাপনার কারণে এবারের এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একগুচ্ছ প্রশ্নের জন্ম দিয়ে শেষ হয়েছে।