অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে ৩২ রানে পরাজিত করে জুনিয়র টাইগ্রেসরা। এই জয়ের ফলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আগামী ১৬ই অক্টোবর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আসরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩০ রানে এবং তৃতীয় ম্যাচে ১৩ রানে হারিয়েছিল জুনিয়র টাইগ্রেসরা। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তানের, যারা ৫ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে। শেষ দিকে আকসা হাবিব ৩২ বলে ২৩ এবং রোজিনা আকরাম ১৬ বলে ১৩ রানে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দলকে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেননি। প্রথম চার ম্যাচের মধ্যে কেবল এক ম্যাচ হারে শ্রীলঙ্কা। আজ শ্রীলঙ্কাকে হারালে সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট পাবে পাকিস্তান।
ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে সাদিয়া ইসলাম দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। তিনি ২৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া শিরিনা খাতুন ৪০ বলে ৩২ রান এবং শেষ দিকে নিশিতা আক্তার নিশি ২০ রানের কার্যকরী ক্যামিও খেলেন। শেষ দিকে নিশিতা আক্তার নিশির ২০ রানের ক্যামিওতে ভর করে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তোলে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। ওপেনার রাভাইল ফারহান ২৬ বলে ৩৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্যদের ব্যর্থতায় পাকিস্তান বড় ব্যবধানে হেরেছে। বাংলাদেশের পক্ষে ফারজানা ইয়াসমিন মেধা ১৯ রান খরচায় ৩টি উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন। এছাড়া নিশিতা আক্তার নিশি ২১ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। এর আগে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপে ধ্বস নামলে একপর্যায়ে ৭.৪ ওভারে মাত্র ৪৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ২১ রানে কোমাল খান (৯) এবং পরে রাহাইমা সৈয়দের (১২) বিদায়ের পর স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামে। ১৩তম ওভারে রাভাইল রান-আউট হলে পাকিস্তানের জয়ের আশায় বড় ধাক্কা লাগে।

