ফিলিস্তিনি এক বন্দিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দেশটির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল বা প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। ‘ফোর্স ১০০’ রিজার্ভ ইউনিটের ওই তিন সেনা ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংগঠন হনেনুর মাধ্যমে জেরুজালেমের একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইসরায়েল রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, সামরিক পুলিশ ও ইসরায়েল পুলিশসহ মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৫ জুলাই, যখন দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটককেন্দ্রে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই বন্দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে লাথি মারা, পায়ে মাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং মাটিতে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাকে বারবার বৈদ্যুতিক শক বা টেজার ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এক পর্যায়ে ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির মলদ্বারের কাছে আঘাত করায় তার রেকটামে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-তে আটককেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করা হলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১২ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতাই অফির নাটকীয়ভাবে সেই অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তদন্তের প্রমাণভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মামলার প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন এখন উল্টো রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মিথ্যা সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল এবং বেআইনিভাবে আটক রেখে মানহানি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের দাবির মধ্যে যৌন অপরাধের অভিযোগের জন্য ১৫ লাখ শেকেল, ১৫ দিনের কথিত বেআইনি আটকের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার শেকেল, মানহানির জন্য ৩০ লাখ শেকেল এবং অন্যায় অভিযোগপত্রের জন্য ১০ লাখ শেকেল চাওয়া হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বন্দি গাজায় ফিরে যাওয়ায় তার সাক্ষ্য ও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বন্দির সাতটি পাঁজর ভেঙে যায়, ফুসফুসে ছিদ্র হয় এবং শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাত লাগে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সাময়িকভাবে স্টোমা স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ফুটেজটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিল।

