বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি

২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য ঐতিহ্যের দেশ। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই আমাদের এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে হবে যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে বিশ্ব মুসলিমের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনই ছিল তার অন্যতম শিক্ষা। মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর চরিত্রের প্রশংসা করে তাকে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ বা ‘সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাসূল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার চরিত্রে উত্তম।’

বিদায় হজের ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেখানে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা আজও মানবজাতির জন্য প্রাসঙ্গিক। মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনা করা। তিনি উপস্থিত সুধীমণ্ডলীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতের ফ্যাসিবাদ বা অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধে রাসূল (সা.)-এর শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ইসলামী মূল্যবোধ বিকাশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এসব উদ্যোগ মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও আলেম-ওলামাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০৩০ সালের আগে দেশের সকল মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়কে মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পথপ্রদর্শক। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পরিশেষে, তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রার্থনা করেন এবং পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই মহতি ও পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি জানাই অগণিত সালাম ও দরুদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে ইসলামের সকল নবী ও রাসূল, নবী (সা)- এর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সকল মুমিন-মুসলমানের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার আগমন ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন মমতাশীল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি দিয়ে গেছেন সুষ্পষ্ট নির্দেশনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন- ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, অঞ্চল কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কোনো মানুষকে অবজ্ঞা করা যাবে না।